লক্ষ্মীপুরে একের পর এক জনপ্রিয় নেতা খুন, ৪ নেতার খোজে পরিবার-অন্ধকারে প্রশাসন ! পরবর্তি টার্গেট কে?

লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক সামছুল ইসলাম সুলায়মানকে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সাদা পোষাকদারী কয়েকজন লোক ঢাকার উত্তরার জয়নাল মার্কেট এলাকায় থেকে অস্ত্রের মুখে মাইক্রোবাসে করে তুলে নেয়ার দুই দিন পর তার লাশ আজ শনিবার উদ্ধার করেছে লক্ষ্মীপুর থানা পুলিশ। অপহরনের ঘটনায়শুক্রবার সুলায়মানের স্ত্রী সালমা ইসলাম বাদী হয়ে উত্তরা থানায় একটি জিডি করেন। সুলায়মান লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিযনের সৈয়দপুর গ্রামের মৃত ছাইদুর রহমানের ছেলে ও জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক। একের পর এক লক্ষ্মীপুর জেলার বিএনপি জামায়াতের জনপ্রিয় নেতাদের অপহরন, গুম ও খুনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন সাধারন মানুষ। চিহ্নিত নেতাকর্মীদের উপর হামলা, মামলা, সর্বশেষ আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে খুন হওয়ায় দলের সিনিয়র নেতাদের মাঝে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। সবার মনে একটাই প্রশ্ন পরবর্তি টার্গেট কে। বিভিন্ন সময়ে খুন ও গুম হওয়া নেতাকর্মীদের আত্মীয়স্বজনরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের কাছে প্রতিকার চেয়ে বার বার ধরনা দিচ্ছেন।
বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের স্ত্রী পারভীন আক্তার জানান, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারী বুধবার ভোররাতে চট্রগ্রামের পতেঙ্গা কাটঘর এলাকার দেলপাড়া মাজার রোড, আফসার বিল্ডিং থেকে র্যাব পরিচয়ে আমার স্বামীকে আটক করে। বাসার নিচে দাড়ানো থাকা র্যাবের গাড়িতে করে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়।
যুবদল নেতা ইকবাল মাহমুদ জুয়েলের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও অধ্যাবদিনআমার ছেলের কোন সন্ধান পাইনি। সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন যেন অতি দ্রুত আমার ছেলের লাশটা হলেও যেন পেতে পারি তার ব্যবস্থা করার জন্য।
লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপি নেতারাসহ জেলাবাসীর জিজ্ঞাসা নিখোঁজ নেতাদের ভাগ্যে আসলে কি ঘটছে। তারা বেঁচে আছেন না মারা গেছেন তাও পরিস্কার করে বলতে পারছেনা পুলিশ। ইতিমধ্যে নিখোঁজ নেতাদের সন্ধান দাবীতে হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করছে বিএনপি ও সহযোগি সংগঠন। তাদের আত্মীয় স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের কান্না ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ বাতাস। মৃত হোক আর জীবিত হোক অন্তত তাদের সন্ধানটুকু পেতে চায় পরিবার। তাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় নির্ঘুম রাত কাটছে নিখোঁজ পরিবারের মধ্যে। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তাদের কোন সন্ধান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এ ৪ বিএনপি নেতা কোথায় আছেন, কেমন আছে, আদৌও জীবিত আছে কিনা, সঠিক উত্তর কি কেউ দিতে পারবেই, এমনটাই প্রশ্ন বিএনপি,যুবদলসহ তাদের আত্মীয় স্বজনের।
জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আবুল খায়ের ভূইয়া জানান,সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ও যুবদল নেতা ইকবাল জুয়েল, সুলায়মানসহ নিখোঁজ নেতাদের সন্ধান দাবী করে বলেন, যদি সত্যিকার অর্থে আইনশৃংখলা বাহিনী তাদেরক আটক করে নিয়ে যায়। তাহলে অনতিবিলম্ভে তাদের মুক্তি দাবী করছি। তবে বিএনপিসহ ১৯দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের খুন, গুম ও নির্যাতন করে
এছাড়া ১৫ ডিসেম্বর রাতে সদর উপজেলা রতনেরখিল এলাকায় থেকে ইউনিয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেনকে ও একই কায়দায় র্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায়। গত ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুর শহরের চকবাজার মসজিদের সামনের সড়কে র্যাবের গুলিতে জেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ জুয়েল গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বিএনপি নেতা ও ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, র্যাবের গুলিতে জুয়েল গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রের মুখে কয়েকজন মানুষ একটি সাদা মাইক্রেবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়।
সুলায়মানের স্ত্রী সালমা ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় ঢাকা উত্তরা ৬নং সেক্টর ডাঃ মিজানের চেম্বারে চিকিৎসা শেষে রিক্সাযোগে যাওয়ার সময় জয়নাল মার্কেট এলাকায় পৌঁছলে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ৮/৯জনের সাদা পোশাকদারী লোকজন তাকে মারধর করে অস্ত্রের মুখে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এরপর উত্তরা র্যাব-১ ও পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনীর দপ্তরে খোজাখুজি করে তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।তবে বিএনপিসহ ১৯দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের খুন, গুম ও নির্যাতন করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। এ সরকারের বিদায় না হওয়ায় পর্যন্ত আন্দোলন চলছে,আন্দোল অব্যাহত থাকবে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, এ সকল বিষয়ে আমি শুনেছি। মামলা হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Created at 2014-04-26 02:11:27
Back to posts
UNDER MAINTENANCE
লক্ষ্মীপুরে একের পর এক জনপ্রিয় নেতা খুন, ৪ নেতার খোজে পরিবার-অন্ধকারে প্রশাসন ! পরবর্তি টার্গেট কে?

লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক সামছুল ইসলাম সুলায়মানকে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সাদা পোষাকদারী কয়েকজন লোক ঢাকার উত্তরার জয়নাল মার্কেট এলাকায় থেকে অস্ত্রের মুখে মাইক্রোবাসে করে তুলে নেয়ার দুই দিন পর তার লাশ আজ শনিবার উদ্ধার করেছে লক্ষ্মীপুর থানা পুলিশ। অপহরনের ঘটনায়শুক্রবার সুলায়মানের স্ত্রী সালমা ইসলাম বাদী হয়ে উত্তরা থানায় একটি জিডি করেন। সুলায়মান লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিযনের সৈয়দপুর গ্রামের মৃত ছাইদুর রহমানের ছেলে ও জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক। একের পর এক লক্ষ্মীপুর জেলার বিএনপি জামায়াতের জনপ্রিয় নেতাদের অপহরন, গুম ও খুনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন সাধারন মানুষ। চিহ্নিত নেতাকর্মীদের উপর হামলা, মামলা, সর্বশেষ আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে খুন হওয়ায় দলের সিনিয়র নেতাদের মাঝে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। সবার মনে একটাই প্রশ্ন পরবর্তি টার্গেট কে। বিভিন্ন সময়ে খুন ও গুম হওয়া নেতাকর্মীদের আত্মীয়স্বজনরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের কাছে প্রতিকার চেয়ে বার বার ধরনা দিচ্ছেন।
বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের স্ত্রী পারভীন আক্তার জানান, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারী বুধবার ভোররাতে চট্রগ্রামের পতেঙ্গা কাটঘর এলাকার দেলপাড়া মাজার রোড, আফসার বিল্ডিং থেকে র্যাব পরিচয়ে আমার স্বামীকে আটক করে। বাসার নিচে দাড়ানো থাকা র্যাবের গাড়িতে করে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়।
যুবদল নেতা ইকবাল মাহমুদ জুয়েলের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও অধ্যাবদিনআমার ছেলের কোন সন্ধান পাইনি। সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন যেন অতি দ্রুত আমার ছেলের লাশটা হলেও যেন পেতে পারি তার ব্যবস্থা করার জন্য।
লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপি নেতারাসহ জেলাবাসীর জিজ্ঞাসা নিখোঁজ নেতাদের ভাগ্যে আসলে কি ঘটছে। তারা বেঁচে আছেন না মারা গেছেন তাও পরিস্কার করে বলতে পারছেনা পুলিশ। ইতিমধ্যে নিখোঁজ নেতাদের সন্ধান দাবীতে হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করছে বিএনপি ও সহযোগি সংগঠন। তাদের আত্মীয় স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের কান্না ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ বাতাস। মৃত হোক আর জীবিত হোক অন্তত তাদের সন্ধানটুকু পেতে চায় পরিবার। তাদের ফিরে আসার অপেক্ষায় নির্ঘুম রাত কাটছে নিখোঁজ পরিবারের মধ্যে। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তাদের কোন সন্ধান এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এ ৪ বিএনপি নেতা কোথায় আছেন, কেমন আছে, আদৌও জীবিত আছে কিনা, সঠিক উত্তর কি কেউ দিতে পারবেই, এমনটাই প্রশ্ন বিএনপি,যুবদলসহ তাদের আত্মীয় স্বজনের।
জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আবুল খায়ের ভূইয়া জানান,সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ও যুবদল নেতা ইকবাল জুয়েল, সুলায়মানসহ নিখোঁজ নেতাদের সন্ধান দাবী করে বলেন, যদি সত্যিকার অর্থে আইনশৃংখলা বাহিনী তাদেরক আটক করে নিয়ে যায়। তাহলে অনতিবিলম্ভে তাদের মুক্তি দাবী করছি। তবে বিএনপিসহ ১৯দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের খুন, গুম ও নির্যাতন করে
এছাড়া ১৫ ডিসেম্বর রাতে সদর উপজেলা রতনেরখিল এলাকায় থেকে ইউনিয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেনকে ও একই কায়দায় র্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায়। গত ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুর শহরের চকবাজার মসজিদের সামনের সড়কে র্যাবের গুলিতে জেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ জুয়েল গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বিএনপি নেতা ও ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, র্যাবের গুলিতে জুয়েল গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রের মুখে কয়েকজন মানুষ একটি সাদা মাইক্রেবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়।
সুলায়মানের স্ত্রী সালমা ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় ঢাকা উত্তরা ৬নং সেক্টর ডাঃ মিজানের চেম্বারে চিকিৎসা শেষে রিক্সাযোগে যাওয়ার সময় জয়নাল মার্কেট এলাকায় পৌঁছলে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ৮/৯জনের সাদা পোশাকদারী লোকজন তাকে মারধর করে অস্ত্রের মুখে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এরপর উত্তরা র্যাব-১ ও পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃংখলা বাহিনীর দপ্তরে খোজাখুজি করে তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।তবে বিএনপিসহ ১৯দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের খুন, গুম ও নির্যাতন করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। এ সরকারের বিদায় না হওয়ায় পর্যন্ত আন্দোলন চলছে,আন্দোল অব্যাহত থাকবে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, এ সকল বিষয়ে আমি শুনেছি। মামলা হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Created at 2014-04-26 02:11:27
Back to posts
UNDER MAINTENANCE