রামগঞ্জে গৃহকর্মীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে নির্মম নির্যাতন॥
নির্যাতনকারীদের গ্রেফতার দাবীতে বাড়ী ঘেরাও

রামগঞ্জ পৌর শহরের শিশু পার্ক সংলগ্ন মোল্লা ভবনের ভাড়াটিয়া সোনাপুর বাজার ব্যবসায়ী গৃহকর্তা সুমন ও গৃহকত্রী সালমা বেগমের নির্মম নির্যাতনের শিকার গৃহপরিচারিকা সোহেল (১০)কে বটি দা দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে।
নির্মম নির্যাতনের শিকার গৃহপরিচারিকা মোঃ সোহেল হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে
স্থানীয় লোকজন গৃহপরিচারিকাকে মূমর্ষবস্থায় উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। এসময় গৃহকর্তা পালিয়ে গেলে ও স্থানীয় এলাকাবাসী গৃহকত্রীকে গ্রেফতার করতে বাড়ীটি ঘেরাও করে শ্লোগান দিতে থাকে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টায়।
স্থানীয় সূত্রে জানায়, গত তিন মাস পূর্বে তাকে পাশ্ববর্তি রায়পুর উপজেলার ব্রাক অফিস সংলগ্ন মাঝি বাড়ীর কাদেরের ছেলে মোঃ সোহেলকে বাড়ীর কাজের জন্য মাসিক ১ হাজার টাকা করে শিশুপার্ক সংলগ্ন মোল্লা ভবনের বাসিন্দা ও সোনাপুর বাজারের নির্মান সামগ্রী ব্যবসায়ী সুমন ট্রেডার্সের মালিক মোঃ সুমন তার বাসায় আনেন। আসার পর থেকে গত ৩ মাসে ঠুনকো অজুহাতে তাকে প্রচন্ড মারধর করতো সুমন ও তার স্ত্রী।
আজ শনিবার সকালে বাসার সবাই ভাত খেলেও গৃহপরিচারিকা সোহেল তাদের কাছে ভাত খেতে চায়। এসময় তারা তাকে বাসার নিচ থেকে পানি এনে পরে ভাত খাওয়ার জন্য বললে সোহেল ক্ষুধার তাড়নায় অন্য ভাড়াটিয়ার ঘরে গিয়ে ভাত খায়। এতে গৃহকত্রী ক্ষীপ্ত হয়ে সোহেলকে বেধম মারধর করে দারালো বটি দিয়ে আঘাত করলে তার হাতে আঘাতসহ মাথা ফেটে যায়। এসময় সে চিৎকার করলে গৃহকত্রী তাকে বটি দা দিয়ে কোপাতে গেলে সোহেল দরজা খুলে ঘর থেকে পালিয়ে অন্য বাসায় আশ্রয় নেয়।
অন্য বাসার লোক গৃহকর্তা সুমনকে বিষয়টি জানালে তিনি সবার উপস্থিতিতে দুপুরে সোহেলকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলে সোনাপুর বাজারস্থ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুমন ট্রের্ডাসে নিয়ে লাঠি দিয়ে দ্বিতীয় দফায় প্রচন্ড মারধর করে। বিকাল সাড়ে ৫টায় স্থানীয় লোকজন সোহেলকে মূমূর্ষাবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বায়োপ্যাথ হাসপাতাল ও পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ঘটনাটি শুনে স্থানীয় এলাকাবাসী বাড়ীটি ঘেরাও করে রাখে।
এসময় গৃহকর্তা সুমন পালিয়ে গেলেও গৃহকত্রী সালমা বেগম স্থানীয় জনতার তোপের মুখে পালাতে পারেনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রামগঞ্জ থানা পুলিশ সালমা বেগমকে গ্রেফতার করতে গেলে সে দরজা বন্ধ করে ভিতরে অবস্থান করেন।
এদিকে ক্ষমতাসীন দলের একটি মহল নির্যাতনকারী গৃহকত্রী সালমা বেগম ও তার স্বামীকে বাঁচাতে উঠেপড়ে লেগেছে। তারা ঘটনাস্থলে যেতে সাংবাদিকদের বার বার নিষেধ করেন। এমনকি নির্যাতনকারীদের ছবি তুলতে গেলেও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন সাংবাদিকরা।
রামগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই শামছুল হক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের এ এস আই শরীফুল ইসলাম রয়েছে। নির্যাতনকারী দম্পতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Created at 2014-04-26 08:17:16
Back to posts
UNDER MAINTENANCE
রামগঞ্জে গৃহকর্মীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে নির্মম নির্যাতন॥
নির্যাতনকারীদের গ্রেফতার দাবীতে বাড়ী ঘেরাও

রামগঞ্জ পৌর শহরের শিশু পার্ক সংলগ্ন মোল্লা ভবনের ভাড়াটিয়া সোনাপুর বাজার ব্যবসায়ী গৃহকর্তা সুমন ও গৃহকত্রী সালমা বেগমের নির্মম নির্যাতনের শিকার গৃহপরিচারিকা সোহেল (১০)কে বটি দা দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে।
নির্মম নির্যাতনের শিকার গৃহপরিচারিকা মোঃ সোহেল হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে
স্থানীয় লোকজন গৃহপরিচারিকাকে মূমর্ষবস্থায় উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। এসময় গৃহকর্তা পালিয়ে গেলে ও স্থানীয় এলাকাবাসী গৃহকত্রীকে গ্রেফতার করতে বাড়ীটি ঘেরাও করে শ্লোগান দিতে থাকে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টায়।
স্থানীয় সূত্রে জানায়, গত তিন মাস পূর্বে তাকে পাশ্ববর্তি রায়পুর উপজেলার ব্রাক অফিস সংলগ্ন মাঝি বাড়ীর কাদেরের ছেলে মোঃ সোহেলকে বাড়ীর কাজের জন্য মাসিক ১ হাজার টাকা করে শিশুপার্ক সংলগ্ন মোল্লা ভবনের বাসিন্দা ও সোনাপুর বাজারের নির্মান সামগ্রী ব্যবসায়ী সুমন ট্রেডার্সের মালিক মোঃ সুমন তার বাসায় আনেন। আসার পর থেকে গত ৩ মাসে ঠুনকো অজুহাতে তাকে প্রচন্ড মারধর করতো সুমন ও তার স্ত্রী।
আজ শনিবার সকালে বাসার সবাই ভাত খেলেও গৃহপরিচারিকা সোহেল তাদের কাছে ভাত খেতে চায়। এসময় তারা তাকে বাসার নিচ থেকে পানি এনে পরে ভাত খাওয়ার জন্য বললে সোহেল ক্ষুধার তাড়নায় অন্য ভাড়াটিয়ার ঘরে গিয়ে ভাত খায়। এতে গৃহকত্রী ক্ষীপ্ত হয়ে সোহেলকে বেধম মারধর করে দারালো বটি দিয়ে আঘাত করলে তার হাতে আঘাতসহ মাথা ফেটে যায়। এসময় সে চিৎকার করলে গৃহকত্রী তাকে বটি দা দিয়ে কোপাতে গেলে সোহেল দরজা খুলে ঘর থেকে পালিয়ে অন্য বাসায় আশ্রয় নেয়।
অন্য বাসার লোক গৃহকর্তা সুমনকে বিষয়টি জানালে তিনি সবার উপস্থিতিতে দুপুরে সোহেলকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কথা বলে সোনাপুর বাজারস্থ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সুমন ট্রের্ডাসে নিয়ে লাঠি দিয়ে দ্বিতীয় দফায় প্রচন্ড মারধর করে। বিকাল সাড়ে ৫টায় স্থানীয় লোকজন সোহেলকে মূমূর্ষাবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বায়োপ্যাথ হাসপাতাল ও পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ঘটনাটি শুনে স্থানীয় এলাকাবাসী বাড়ীটি ঘেরাও করে রাখে।
এসময় গৃহকর্তা সুমন পালিয়ে গেলেও গৃহকত্রী সালমা বেগম স্থানীয় জনতার তোপের মুখে পালাতে পারেনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রামগঞ্জ থানা পুলিশ সালমা বেগমকে গ্রেফতার করতে গেলে সে দরজা বন্ধ করে ভিতরে অবস্থান করেন।
এদিকে ক্ষমতাসীন দলের একটি মহল নির্যাতনকারী গৃহকত্রী সালমা বেগম ও তার স্বামীকে বাঁচাতে উঠেপড়ে লেগেছে। তারা ঘটনাস্থলে যেতে সাংবাদিকদের বার বার নিষেধ করেন। এমনকি নির্যাতনকারীদের ছবি তুলতে গেলেও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন সাংবাদিকরা।
রামগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই শামছুল হক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের এ এস আই শরীফুল ইসলাম রয়েছে। নির্যাতনকারী দম্পতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Created at 2014-04-26 08:17:16
Back to posts
UNDER MAINTENANCE