শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার উহ্য রয়ে গেছে

Write By Atik Hasan,,-
দৈনিক ৮ ঘণ্টার কাজের দাবীতে জমায়েত হয়ে ১৮৮৬ সালের ৪ মে আমেরিকার শিকাগো শহরে নিগত হন চার শ্রমিক নেতা । এ ঘটনাটিকে সামনে রেখে ১৮৮৭ সালের ১ মে থেকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস কিংবা মে দিবস পালন করা শুরু হয়। বর্তমানে দিনটি পৃথিবীর প্রায় ৮০ টিরও বেশী দেশে জাতীয় ছুটির দিন হিসাবে পালিত হয়। বিস্ময়কর মনে হলেও সত্যি, মে দিবসের সুতিকাগার যুক্তরাষ্ট্রে, সেইসঙ্গে কানাডায় মে মাসের ১ তারিখের পরিবর্তে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সোমবার শ্রমিক দিবস পালিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বর মাসে শ্রমিক দিবস পালনের ব্যাপারটি হে মার্কেটের সামনে শ্রমিক হত্যারও পূর্বে ১৮৮০ সাল থেকে চলে আসছে।
সুত্র মতে জানা যায় যে বাংলাদেশে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে প্রথম মে দিবস পালিত হয় ১৯৩৮ সালে, নারায়ণগঞ্জে । পাকিস্তান আমলেও মে দিবস পালিত হতো । ১৯৭১ সালে দেশে স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সাল থেকে মে দিবস সরকারী ছুটির দিন ঘোষিত হয় ।
যেসকল মানুষ কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা ঠিকাদার এর অধীনে দৈনিক বা মাসিক মজুরীর ভিত্তিতে কাজ করে থাকেন, তারাই শ্রমিক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপে ২০০৬ এর শ্রম আইন সংশোধন করে গত ১৫ই জুলাই শ্রম আইন ২০১৩ পাশ করা হয়। নতুন শ্রম আইনে যে কোন পোশাক কারখানার ৩০ শতাংশ শ্রমিকের অংশগ্রহণে ইউনিয়ন করার কথার পাশাপাশি আর শ্রমিকদের নিরাপত্তা আর কর্মপরিবেশের বিষয়ে কিছু সংশোধনী আনা হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, এই আইন কি পেরেছে শ্রমিকের যথার্থ নিরাপত্তা দিয়ে অধিকার নিশ্চিত করতে?
শ্রমিক আইন ২০০৬ এর ৪২ নং আইনসরাসরি উল্লেখ আছে যে , কোন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক কে দিয়ে দৈনিক আট ঘণ্টার বেশী কাজ করানো যাবেনা । তবে শর্ত সাপেক্ষে ১০৮ এর বিধান এর মতে শ্রমিক দশ ঘণ্টাও ও কাজ করতে পারবেন অতিরিক্ত মজুরীর বিনিময়ে। সপ্তাহে আটচল্লিশ ঘণ্টার বেশী কাজ করতে পারবেন না এবং উক্ত শ্রমিক কে দিয়ে কাজ করানো ও যাবে না । নৈমিত্তিক ছুটি , অসুস্থকালিন ছুটি ,মজুরীসহ বাৎসরিক ছুটি, উৎসবে ছুটি দিতে হবে ।
আমাদের দেশের আয়ের মূল উৎস পোশাক কারখানা। কিন্তু এই সকল প্রতিষ্ঠানে একদমই মানা হয়না শ্রমিক আইন । নেই শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত কাজের সুবিধা এবং নিরাপত্তা । সাপ্তাহিক ছুটি থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটিও মেলে না বেশীরভাগ কারখানায় । এর সঙ্গে মাসিক বেতনের পরিমান সরকার থেকে নির্ধারিত থাকলেও, মালিক পক্ষ নিজেদের মতো করেই বেতন দিয়ে থাকেন শ্রমিকদের । মানা হয় না একজন শ্রমিকের সঠিক বয়সসীমা। যে কারণে পোশাক শিল্পে শিশু শ্রমিক এর সংখ্যা লক্ষণীয় ।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেটের তাগিদে কাজ করা মানুষগুলোর শ্রমের সঠিক মূল্য তো দূরে থাক নেই জীবনের মূল্যও। তাজা উদাহরণ হল- তাজরিন গার্মেন্টস এর আগুনে পুড়ে যাওয়া শত শত মানুষ এবং বহুল আলোচিত রানা প্লাজা ভবন ধসে হাজার হাজার শ্রমিক এর মৃত্যু এবং পঙ্গুত্ব বরণ ।
পোশাক শিল্প শ্রমিকদের অভিযোগ, মালিক পক্ষের রোষানলে বন্দী হয়ে তারা ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারেননি । এই সকল শ্রমিকরা মনে করেন ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারলে পোশাক শিল্পে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যেতে পারে । বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন আছে যাদের বেশীরভাগই কোন একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সংপৃক্ত ।
লক্ষণীয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে যার মতো করে নিয়ম তৈরি করে শ্রমিকদের কাজে লাগাচ্ছেন এবং প্রাপ্য সুবিধা ও মজুরি থেকে শুধু বঞ্চিতই করছেন না, যখন তখন ইচ্ছে মতো কর্মী ছাটাই এর রেকর্ড ও রয়েছে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক জানালেন – তাদের প্রতিষ্ঠানে একদিনে প্রায় ১০০ এর অধিক শ্রমিক সহ কিছু উচ্চপদস্থ কর্ম কর্তাকে ছাটাই করেছেন মালিক পক্ষ । কিন্তু সে ব্যাপারটি গোপন রেখে তাদের স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হচ্ছে স্বেচ্ছাপদত্যাগ পত্রতে। আর্থিক লেনদেন এর অংশ চুকে যায়নি বলে অনেকটা বাধ্য হয়েই তারা লিখছেন ‘ব্যক্তিগত কারণ’-এর কথা । তাদের পাশে কেউ নেই দেখার কেউ । মালিক পক্ষ সবসময় ই শক্তিশালী এবং সকল ক্ষমতার অধিকারী । প্রতি বছর ই ‘মে দিবস’ পালন করা হয় ঠিক ই কিন্তু যেসকল দাবী আদায়ের জন্য এই দিবসটি এসেছে বাস্তবে তা এখনো অর্জিত হয়নি ।
Created at 2014-04-30 10:59:50
Back to posts
UNDER MAINTENANCE
শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার উহ্য রয়ে গেছে

Write By Atik Hasan,,-
দৈনিক ৮ ঘণ্টার কাজের দাবীতে জমায়েত হয়ে ১৮৮৬ সালের ৪ মে আমেরিকার শিকাগো শহরে নিগত হন চার শ্রমিক নেতা । এ ঘটনাটিকে সামনে রেখে ১৮৮৭ সালের ১ মে থেকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস কিংবা মে দিবস পালন করা শুরু হয়। বর্তমানে দিনটি পৃথিবীর প্রায় ৮০ টিরও বেশী দেশে জাতীয় ছুটির দিন হিসাবে পালিত হয়। বিস্ময়কর মনে হলেও সত্যি, মে দিবসের সুতিকাগার যুক্তরাষ্ট্রে, সেইসঙ্গে কানাডায় মে মাসের ১ তারিখের পরিবর্তে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সোমবার শ্রমিক দিবস পালিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বর মাসে শ্রমিক দিবস পালনের ব্যাপারটি হে মার্কেটের সামনে শ্রমিক হত্যারও পূর্বে ১৮৮০ সাল থেকে চলে আসছে।
সুত্র মতে জানা যায় যে বাংলাদেশে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে প্রথম মে দিবস পালিত হয় ১৯৩৮ সালে, নারায়ণগঞ্জে । পাকিস্তান আমলেও মে দিবস পালিত হতো । ১৯৭১ সালে দেশে স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সাল থেকে মে দিবস সরকারী ছুটির দিন ঘোষিত হয় ।
যেসকল মানুষ কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা ঠিকাদার এর অধীনে দৈনিক বা মাসিক মজুরীর ভিত্তিতে কাজ করে থাকেন, তারাই শ্রমিক। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপে ২০০৬ এর শ্রম আইন সংশোধন করে গত ১৫ই জুলাই শ্রম আইন ২০১৩ পাশ করা হয়। নতুন শ্রম আইনে যে কোন পোশাক কারখানার ৩০ শতাংশ শ্রমিকের অংশগ্রহণে ইউনিয়ন করার কথার পাশাপাশি আর শ্রমিকদের নিরাপত্তা আর কর্মপরিবেশের বিষয়ে কিছু সংশোধনী আনা হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, এই আইন কি পেরেছে শ্রমিকের যথার্থ নিরাপত্তা দিয়ে অধিকার নিশ্চিত করতে?
শ্রমিক আইন ২০০৬ এর ৪২ নং আইনসরাসরি উল্লেখ আছে যে , কোন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক কে দিয়ে দৈনিক আট ঘণ্টার বেশী কাজ করানো যাবেনা । তবে শর্ত সাপেক্ষে ১০৮ এর বিধান এর মতে শ্রমিক দশ ঘণ্টাও ও কাজ করতে পারবেন অতিরিক্ত মজুরীর বিনিময়ে। সপ্তাহে আটচল্লিশ ঘণ্টার বেশী কাজ করতে পারবেন না এবং উক্ত শ্রমিক কে দিয়ে কাজ করানো ও যাবে না । নৈমিত্তিক ছুটি , অসুস্থকালিন ছুটি ,মজুরীসহ বাৎসরিক ছুটি, উৎসবে ছুটি দিতে হবে ।
আমাদের দেশের আয়ের মূল উৎস পোশাক কারখানা। কিন্তু এই সকল প্রতিষ্ঠানে একদমই মানা হয়না শ্রমিক আইন । নেই শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত কাজের সুবিধা এবং নিরাপত্তা । সাপ্তাহিক ছুটি থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটিও মেলে না বেশীরভাগ কারখানায় । এর সঙ্গে মাসিক বেতনের পরিমান সরকার থেকে নির্ধারিত থাকলেও, মালিক পক্ষ নিজেদের মতো করেই বেতন দিয়ে থাকেন শ্রমিকদের । মানা হয় না একজন শ্রমিকের সঠিক বয়সসীমা। যে কারণে পোশাক শিল্পে শিশু শ্রমিক এর সংখ্যা লক্ষণীয় ।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেটের তাগিদে কাজ করা মানুষগুলোর শ্রমের সঠিক মূল্য তো দূরে থাক নেই জীবনের মূল্যও। তাজা উদাহরণ হল- তাজরিন গার্মেন্টস এর আগুনে পুড়ে যাওয়া শত শত মানুষ এবং বহুল আলোচিত রানা প্লাজা ভবন ধসে হাজার হাজার শ্রমিক এর মৃত্যু এবং পঙ্গুত্ব বরণ ।
পোশাক শিল্প শ্রমিকদের অভিযোগ, মালিক পক্ষের রোষানলে বন্দী হয়ে তারা ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারেননি । এই সকল শ্রমিকরা মনে করেন ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারলে পোশাক শিল্পে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যেতে পারে । বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন আছে যাদের বেশীরভাগই কোন একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সংপৃক্ত ।
লক্ষণীয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে যার মতো করে নিয়ম তৈরি করে শ্রমিকদের কাজে লাগাচ্ছেন এবং প্রাপ্য সুবিধা ও মজুরি থেকে শুধু বঞ্চিতই করছেন না, যখন তখন ইচ্ছে মতো কর্মী ছাটাই এর রেকর্ড ও রয়েছে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক জানালেন – তাদের প্রতিষ্ঠানে একদিনে প্রায় ১০০ এর অধিক শ্রমিক সহ কিছু উচ্চপদস্থ কর্ম কর্তাকে ছাটাই করেছেন মালিক পক্ষ । কিন্তু সে ব্যাপারটি গোপন রেখে তাদের স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হচ্ছে স্বেচ্ছাপদত্যাগ পত্রতে। আর্থিক লেনদেন এর অংশ চুকে যায়নি বলে অনেকটা বাধ্য হয়েই তারা লিখছেন ‘ব্যক্তিগত কারণ’-এর কথা । তাদের পাশে কেউ নেই দেখার কেউ । মালিক পক্ষ সবসময় ই শক্তিশালী এবং সকল ক্ষমতার অধিকারী । প্রতি বছর ই ‘মে দিবস’ পালন করা হয় ঠিক ই কিন্তু যেসকল দাবী আদায়ের জন্য এই দিবসটি এসেছে বাস্তবে তা এখনো অর্জিত হয়নি ।
Created at 2014-04-30 10:59:50
Back to posts
UNDER MAINTENANCE
≈≈≈ শ্রমিকে অধিকার চাই ≈≈≈