রামগঞ্জে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং ও প্রচণ্ড গরমে অতীষ্ট জনজীবন,জেলায় আজকের তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস

১৭ জুন: একদিকে প্রচণ্ড গরম অন্যদিকে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে সাধারন মানুষের নাভিশ্বাস চরম আকার ধারন করেছে।প্রচণ্ড তাপদাহের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন উপজেলাবাসী। ঘরে ঘরে সর্দিজ্বরের প্রাদূর্ভাব দেখা দিয়েছে। ঘরমে অতীষ্ট মানুষ একটি প্রশান্তির ছোঁয়া পাওয়ার আশা করলেও ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুতের দেখা পাচ্ছেন না উপজেলাবাসী। প্রতিদিন ঘণ্টার পর লোডশেডিং অব্যাহত থাকলেও তা থেকে উত্তোরনে বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথা নেই। বিদ্যুত বিভাগের দাবী মতেই এ উপজেলায় বিদ্যুত থাকে প্রতিদিন ১২ থেকে সাড়ে ১২ ঘন্টা। অথছ বিদ্যুত গ্রাহক ভুক্তভোগিরা জানান, ভোর বেলায় ঘুমে থাকা অবস্থায় বিদ্যুত গেলে আসে সকাল ১০টার পর। এসময় বিদ্যুত আসলেও থাকে চরম লো-ভোল্টেজ। ফলে ফটোকপি, কম্পিউটারে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য আসা লোকজন পড়েন চরম বিপাকে। মাত্র ১ থেকে দেড় ঘন্টা বিদ্যুত স্থায়ী হলেও আবার শুরু হয় টানা লোডশেডিং। বিকাল চারটার পর পাওয়া যায় বিদ্যুত। থেমে থেমে চলে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি। রাত ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুতের মিসকল্ড চলতে থাকে। রাতে খেলার কারনে মাত্র ৪৫ মিনিট বিদ্যুত স্থায়ী হলেও ভোর পর্যন্ত চলে আবারো বিদ্যুতের আসা যাওয়া। একদিকে প্রচ- গরমে তাপমাত্রা বৃদ্ধি অন্যদিকে বিদ্যুতের এ লোডশেডিংয়ের কারনে সাধারন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে সর্দি জ্বরের প্রাদুর্ভাব। শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা সব’চে খারাপ। স্কুল কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও খুব কম। রামগঞ্জ শহরের রাস্তাঘাট ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ক্রেতা শুন্য।
জেলা সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলায় আজকের তাপমাত্রা প্রায় ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা বিগত ষাট বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।
জানান, বিদ্যুতের এ চরম অনিয়ম থাকলেও প্রতিনিয়ত বিল বাড়ছে। ডিমান্ড চার্জ, মিটারভাড়া, সার্ভিস চার্জের নাম দিয়ে প্রতিমাসেই পল্লী বিদ্যুত কতৃপক্ষ এ উপজেলা থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। একটু বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে চলে যায় বিদ্যুত, ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে গেলেও বিদ্যুতের দেখা নেই। আমরা এ অনিয়ম থেকে পরিত্রান চাই।
আবুল কাশেম পাটওয়ারী (৬৫) জানান, তার জ্ঞান বুদ্ধি হওয়ার পর এত গরম অনুভব করেননি ।
বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ বাহার মিয়া, আউয়াল হোসেন আজাদসহ বেশ কয়েকজন জানান, এত গরম পড়লেও যদি শান্তিমতো একটু বিদ্যুত পেতাম। তাহলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতাম।
কথিত রয়েছে রামগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন জনপ্রতিনিধি বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের সাথে গোফনে আঁতাত করে আইপিস, জেনারেটর এমনকি নগদ টাকাও সুবিধা নিচ্ছেন। শুধু তাই নয় বিদ্যুত অফিসে যেন ক্ষুব্দ গ্রাহকরা হামলা করতে না পারে সেজন্য রয়েছে একটি বিশেষ পেটোয়া বাহিনী।
কয়েকজন জনপ্রতিনিধি কয়েকবার সাধারন গ্রাহকদের নিয়ে আন্দোলন করলেও ১৫ দিন পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত থাকলেও আবারো পূর্বেও অবস্থায় ফিরে আসে।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুত কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দুরন্ধর। কারন রামগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য লায়ন এম এ রামগঞ্জে এসে যে কয়দিন থাকেন এবং যে সব স্থানে সভা সমাবেশ করেন সে সব এলাকায় বিদ্যুত রাখে নিরবিচ্ছিন্ন। তিনি যাওয়ার পর বিদ্যুতের লোডশেডিং আরো ভয়াবহ আকার ধারন করে।
তারা আরো জানান, গত ১৫ দিন থেকে বৃষ্টি নেই। যদি বৃষ্টি হতো তাহলে মানুষের কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হতো।
রামগঞ্জ উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, পূরো জেলাবাসীর অনেক চাহিদা থাকলেও এ জেলায় বিদ্যুত পাওয়া যায় মাত্র সাড়ে ১৩ মেগাওয়াট। ৪২ হাজার বিদ্যুত গ্রাহকের জন্য রামগঞ্জে পাই মাত্র ৪ মেগাওয়াট। সেখান থেকেও রায়পুর পৌরসভাকে বিদ্যুত দিতে হয়। যার কারনে এক প্রকার বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
Created at 2014-06-17 02:51:00
Back to posts
UNDER MAINTENANCE
রামগঞ্জে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং ও প্রচণ্ড গরমে অতীষ্ট জনজীবন,জেলায় আজকের তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস

১৭ জুন: একদিকে প্রচণ্ড গরম অন্যদিকে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে সাধারন মানুষের নাভিশ্বাস চরম আকার ধারন করেছে।প্রচণ্ড তাপদাহের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন উপজেলাবাসী। ঘরে ঘরে সর্দিজ্বরের প্রাদূর্ভাব দেখা দিয়েছে। ঘরমে অতীষ্ট মানুষ একটি প্রশান্তির ছোঁয়া পাওয়ার আশা করলেও ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুতের দেখা পাচ্ছেন না উপজেলাবাসী। প্রতিদিন ঘণ্টার পর লোডশেডিং অব্যাহত থাকলেও তা থেকে উত্তোরনে বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথা নেই। বিদ্যুত বিভাগের দাবী মতেই এ উপজেলায় বিদ্যুত থাকে প্রতিদিন ১২ থেকে সাড়ে ১২ ঘন্টা। অথছ বিদ্যুত গ্রাহক ভুক্তভোগিরা জানান, ভোর বেলায় ঘুমে থাকা অবস্থায় বিদ্যুত গেলে আসে সকাল ১০টার পর। এসময় বিদ্যুত আসলেও থাকে চরম লো-ভোল্টেজ। ফলে ফটোকপি, কম্পিউটারে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য আসা লোকজন পড়েন চরম বিপাকে। মাত্র ১ থেকে দেড় ঘন্টা বিদ্যুত স্থায়ী হলেও আবার শুরু হয় টানা লোডশেডিং। বিকাল চারটার পর পাওয়া যায় বিদ্যুত। থেমে থেমে চলে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি। রাত ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুতের মিসকল্ড চলতে থাকে। রাতে খেলার কারনে মাত্র ৪৫ মিনিট বিদ্যুত স্থায়ী হলেও ভোর পর্যন্ত চলে আবারো বিদ্যুতের আসা যাওয়া। একদিকে প্রচ- গরমে তাপমাত্রা বৃদ্ধি অন্যদিকে বিদ্যুতের এ লোডশেডিংয়ের কারনে সাধারন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে সর্দি জ্বরের প্রাদুর্ভাব। শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা সব’চে খারাপ। স্কুল কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও খুব কম। রামগঞ্জ শহরের রাস্তাঘাট ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ক্রেতা শুন্য।
জেলা সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলায় আজকের তাপমাত্রা প্রায় ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা বিগত ষাট বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।
জানান, বিদ্যুতের এ চরম অনিয়ম থাকলেও প্রতিনিয়ত বিল বাড়ছে। ডিমান্ড চার্জ, মিটারভাড়া, সার্ভিস চার্জের নাম দিয়ে প্রতিমাসেই পল্লী বিদ্যুত কতৃপক্ষ এ উপজেলা থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। একটু বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে চলে যায় বিদ্যুত, ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে গেলেও বিদ্যুতের দেখা নেই। আমরা এ অনিয়ম থেকে পরিত্রান চাই।
আবুল কাশেম পাটওয়ারী (৬৫) জানান, তার জ্ঞান বুদ্ধি হওয়ার পর এত গরম অনুভব করেননি ।
বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ বাহার মিয়া, আউয়াল হোসেন আজাদসহ বেশ কয়েকজন জানান, এত গরম পড়লেও যদি শান্তিমতো একটু বিদ্যুত পেতাম। তাহলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচতাম।
কথিত রয়েছে রামগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন জনপ্রতিনিধি বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের সাথে গোফনে আঁতাত করে আইপিস, জেনারেটর এমনকি নগদ টাকাও সুবিধা নিচ্ছেন। শুধু তাই নয় বিদ্যুত অফিসে যেন ক্ষুব্দ গ্রাহকরা হামলা করতে না পারে সেজন্য রয়েছে একটি বিশেষ পেটোয়া বাহিনী।
কয়েকজন জনপ্রতিনিধি কয়েকবার সাধারন গ্রাহকদের নিয়ে আন্দোলন করলেও ১৫ দিন পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত থাকলেও আবারো পূর্বেও অবস্থায় ফিরে আসে।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুত কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দুরন্ধর। কারন রামগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য লায়ন এম এ রামগঞ্জে এসে যে কয়দিন থাকেন এবং যে সব স্থানে সভা সমাবেশ করেন সে সব এলাকায় বিদ্যুত রাখে নিরবিচ্ছিন্ন। তিনি যাওয়ার পর বিদ্যুতের লোডশেডিং আরো ভয়াবহ আকার ধারন করে।
তারা আরো জানান, গত ১৫ দিন থেকে বৃষ্টি নেই। যদি বৃষ্টি হতো তাহলে মানুষের কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হতো।
রামগঞ্জ উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, পূরো জেলাবাসীর অনেক চাহিদা থাকলেও এ জেলায় বিদ্যুত পাওয়া যায় মাত্র সাড়ে ১৩ মেগাওয়াট। ৪২ হাজার বিদ্যুত গ্রাহকের জন্য রামগঞ্জে পাই মাত্র ৪ মেগাওয়াট। সেখান থেকেও রায়পুর পৌরসভাকে বিদ্যুত দিতে হয়। যার কারনে এক প্রকার বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
Created at 2014-06-17 02:51:00
Back to posts
UNDER MAINTENANCE
pitaile sob tik hoie jeto.